পশ্চিমবঙ্গে যুবকরা নতুন বেকার ভাতা প্রকল্পের জন্য দীর্ঘ সারি কেন? বিস্তারিত জানুন





পশ্চিমবঙ্গে যুবকরা নতুন বেকার ভাতা প্রকল্পের জন্য দীর্ঘ সারি কেন? বিস্তারিত জানুন

পশ্চিমবঙ্গে যুবকরা নতুন বেকার ভাতা প্রকল্পের জন্য দীর্ঘ সারি কেন? বিস্তারিত জানুন

নতুন বেকার ভাতা প্রকল্পের পেছনের কারণ

পশ্চিমবঙ্গ সরকার সম্প্রতি একটি নতুন বেকার ভাতা প্রকল্প চালু করেছে, যার লক্ষ্য রাজ্যের যুবকদের আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করা। করোনাকালের পর থেকে অর্থনৈতিক মন্দা ও কর্মসংস্থানের সংকট ক্রমেই বাড়ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবকদের মাসিক নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রদান করা হবে, যাতে তারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। এতে করে দীর্ঘমেয়াদী বেকারত্বের চাপ কিছুটা কমানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের জন্য আবেদন শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন শহরে যুবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে, যার ফলে সরকারি অফিস ও আবেদন কেন্দ্রগুলিতে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।

যুবকদের দৃষ্টিভঙ্গি: আশা ও উদ্বেগের মিশ্রণ

কলকাতার বেহালা এলাকার ২৮ বছর বয়সী সুমিত মণ্ডল বলেন, “বেকারত্বের কারণে পরিবারে চাপ অনেক বেশি। এই ভাতা না পেলে অনেকেই কষ্টে দিন কাটাচ্ছিল। এখন অন্তত কিছু টাকা পেলে মাসিক খরচ সামলানো সহজ হবে।”

তবে, অনেক যুবকই এই প্রকল্পের কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দিহান। একটি কলেজ গ্রাজুয়েট, ঊর্মিলা দত্ত, জানালেন, “ভাতা পাওয়া ভালো, কিন্তু এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া উচিত নয়। আমাদেরকে নিজে থেকেই দক্ষতা বাড়িয়ে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।”

অনেকেরই উদ্বেগ কাজের সুযোগের সীমাবদ্ধতা এবং ভাতার পরিমাণ নিয়ে। কিছু যুবক মনে করেন, এই অর্থনৈতিক সহায়তা সাময়িক হলেও তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করবে।

অফিসিয়াল প্রক্রিয়া ও দীর্ঘ সারির বাস্তবতা

সরকারি দপ্তর ও আবেদন কেন্দ্রে দীর্ঘ সারির পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে না হওয়ায় অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে এসে আবেদন করতে বাধ্য হচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, তথ্য যাচাই ও নথিপত্র যাচাই করার জন্য সময় বেশি লাগছে।

আবেদনকারীদের মধ্যে অনেকে সকালে খুব আগেই এসে সারিতে দাঁড়ান, কারণ তারা আশঙ্কা করেন যে সারি লম্বা হলে আবেদন না করতে পারার সম্ভাবনা থাকবে। বহু যুবক বলেন, “সকালে ভোর থেকে এসে সারি দাড়াতে হয়, অনেক সময় অফিস খোলার আগেই সারি লম্বা হয়ে যায়।”

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য পরবর্তী পর্যায়ে অনলাইন পদ্ধতিতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব

এই প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক যুবকই সাময়িক আর্থিক সাহায্য পাচ্ছেন, যা তাদের মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। দীর্ঘমেয়াদে বেকারত্ব কমানোর জন্য শিক্ষাগত ও প্রশিক্ষণমূলক উদ্যোগের সঙ্গে এই প্রকল্পকে সংযুক্ত করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করেন, বেকার ভাতা একমাত্র সমাধান নয়। দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ এবং শিল্পখাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো আবশ্যক।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে, এই ভাতা প্রকল্প যুবকদের মাঝে এক ধরনের আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘ সারির মাঝেও তারা এই সুযোগ গ্রহণ করতে আগ্রহী, যা বোঝায় যে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য তাদের প্রত্যাশা কতটুকু প্রবল।

ভবিষ্যতের দিকে নজর

পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই প্রকল্পের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে পরবর্তী সংস্করণে আরও উন্নতি আনার পরিকল্পনা করছে। যুবকদের প্রতিক্রিয়া, আবেদন প্রক্রিয়ার সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি এই প্রকল্পের সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

যুবকেরা আশা করছেন, এই ধরনের সহায়তা তাদের জীবনযাত্রাকে সাময়িক হলেও সহজ করবে এবং ভবিষ্যতে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর পথ সুগম করবে।

সূত্রঃ Google News West Bengal


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More
articles