“`html
ভূমিপুত্র প্রার্থী দাবিতে পোস্টার যুদ্ধ, প্রার্থী বাছাই নিয়ে তৃণমূলে তীব্র অন্তর্দলীয় কোন্দল
ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তর্দলীয় কোন্দল প্রকাশ পেয়েছে একটি ‘ভূমিপুত্র প্রার্থী চাই’ শীর্ষক পোস্টার বিতর্কের মাধ্যমে। পোস্টারে কেশপুরবাসীর দাবি তুলে ধরা হয়েছে যে, কেশপুর বিধানসভায় স্থানীয় ভূমিপুত্র প্রার্থী হওয়া উচিত। একইসঙ্গে বর্তমান বিধায়ক শিউলি সাহাকে ‘বহিরাগত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের পুনরুত্থান ঘটিয়েছে। জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব এই পোস্টারকে বিরোধীদের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে।
প্রাসঙ্গিক তথ্য ও প্রেক্ষাপট
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় মোট ১৫টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঘাটাল ও খড়্গপুর কেন্দ্র ছাড়া বাকি ১৩টি আসনে তৃণমূল জয়লাভ করে। কেশপুর কেন্দ্রের বর্তমান বিধায়ক শিউলি সাহা ২০১৬ ও ২০২১ সালের দুই নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। ২০১৬ সালে তিনি লক্ষাধিক ভোটে জয়ী হলেও ২০২১ সালে জয়ের ব্যবধান কমে প্রায় ২০ হাজারের কিছু বেশি হয়েছে। অতীতে কেশপুরের তৃণমূলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ইতিহাস রয়েছে, যেখানে ব্লক সভাপতি প্রদ্যোত পাঁজা ও বিধায়ক শিউলি সাহার মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ পেয়েছিল।
জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক জানান, তিনি পোস্টার কারা দিয়েছে তা জানেন না, তবে স্থানীয় প্রার্থী হলে ভালো হবে বলে মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিউলি সাহা রাজ্যের মন্ত্রী হলেও ব্লক নেতৃত্বের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো নয়। প্রাক্তন ব্লক সভাপতি সঞ্জয় পান, উত্তমানন্দ ত্রিপাঠী এবং প্রদ্যোত পাঁজার সঙ্গে বিধায়কের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। তবে রফিক দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলার কথাও উল্লেখ করেন।
জেলা তৃণমূল সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, দলের কেউ এই ধরনের পোস্টার দিতে পারেনি এবং এটি বিরোধীদের ষড়যন্ত্র। তিনি দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেবেন বলে জানান। বিধায়ক শিউলি সাহা ও ব্লক সভাপতি প্রদ্যোত পাঁজা এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব পোস্টার বিতর্ককে বিরোধীদের সৃষ্ট ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বারোপ করেছে। মহম্মদ রফিকের মন্তব্যকে জেলা সভাপতি অজিত মাইতি দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে দেখছেন এবং এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিধায়ক ও ব্লক সভাপতির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিজেপির জেলা নেতা তন্ময় ঘোষ এই পোস্টার বিতর্ককে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বিজেপির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট করেছেন।
নাগরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
কেশপুরের তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে স্থানীয় প্রার্থীর প্রতি চাহিদা এবং দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ভোটার ও সাধারণ জনতার মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। স্থানীয় নেতৃত্ব ও বিধায়কের সম্পর্কের অবনতি দলের ঐক্যহীনতার ইঙ্গিত দেয় যা নির্বাচনী প্রচারণায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় নেতৃত্বের কঠোর প্রতিক্রিয়া এই প্রভাব সীমিত রাখতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও প্রত্যাশিত পদক্ষেপ
জেলা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। মহম্মদ রফিকের মন্তব্য নিয়ে দলের অভ্যন্তরে অনুসন্ধান ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বিধায়ক ও ব্লক সভাপতির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া না আসায় ভবিষ্যতে দলীয় সিদ্ধান্ত ও প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় এই বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
নীতির উৎস প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
উৎস: Ei Samay
“`


