মমতা সরকার ঘোষণা করল বাংলার যুব সাথী স্কিমে মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা ২০২৬, যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া কী?
পশ্চিমবঙ্গের তরুণ সমাজের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে ‘যুব সাথী স্কিম’ যেটির অধীনে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজ্যের যুবকদের মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো যুবসমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও শিক্ষাগত প্রগতি নিশ্চিত করা। এই স্কিমের মাধ্যমে রাজ্যের যুব সমাজকে আর্থিকভাবে সহায়তা দিয়ে তাদের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করা হবে।
যুব সাথী স্কিম: মূল উদ্দেশ্য ও সুবিধা
যুব সাথী স্কিম রাজ্যের যুবকদের জন্য একটি বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। এই স্কিমের আওতায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবক ও যুবতীদের মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার তরুণ এই সুবিধা পাবেন। মূলত শিক্ষার্থী, স্নাতকোত্তর পড়ুয়া, এবং কর্মসংস্থানের খোঁজে থাকা যুবকদের জন্য এই ভাতা অত্যন্ত সহায়ক হবে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্কিমটির ঘোষণা করার সময় উল্লেখ করেছেন, “আমাদের যুব সমাজই ভবিষ্যতের শক্তি। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা রাজ্যের উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাই।” এই ভাতা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চাকরি খোঁজার সময় আর্থিক চাপ কিছুটা কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুব সমাজের প্রত্যুত্তর: আশাবাদ ও উদ্বেগের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
কলকাতা ও হাওড়া থেকে বিভিন্ন তরুণ-তরুণী এই স্কিম সম্পর্কে তাদের ভাবনা শেয়ার করেছেন। অনেকে বলেন, “মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা আমাদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন খরচ সামলাতে অনেক সাহায্য করবে। বিশেষ করে যাদের পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল, তাদের জন্য এটি আশীর্বাদ স্বরূপ।”
অন্যদিকে কিছু যুবক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভাতা প্রাপ্তির যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে। একজন কলেজ পড়ুয়া বলেন, “স্কিমটি ভালো হলেও আবেদন প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় সরকারি প্রকল্পে জটিলতা থাকে, যা সাধারণ যুবকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।”
এছাড়া, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি এই ধরনের আর্থিক সহায়তা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকা জরুরি বলে মনে করেন অনেকে। “ভাতা পাওয়া ভালো, কিন্তু এর পাশাপাশি আমাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোও প্রয়োজন,” মন্তব্য করেন এক তরুণ উদ্যোক্তা।
যে যোগ্যতাগুলো প্রয়োজন এবং আবেদন প্রক্রিয়া
যুব সাথী স্কিমের জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীর পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। সাধারণত মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পাশ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন, তবে বিশেষ ক্ষেত্রে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারেন।
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে জানা গেছে। রাজ্য সরকারের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে আবেদন করতে হবে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যেমন নাগরিকত্ব প্রমাণপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য আপলোড করতে হতে পারে। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত প্রার্থীদের মাসিক ভাতা প্রদান শুরু করা হবে।
সরকার আরও জানিয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ রাখতে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে যাতে প্রত্যেক যোগ্য যুবক এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারে।
সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনা
যুব সাথী স্কিম রাজ্যের তরুণ সমাজের জন্য একটি নতুন আশার আলো হিসেবে দেখা যাচ্ছে। আর্থিক সহায়তা পেলে অনেকেই তাদের উচ্চশিক্ষা বা দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগ দিতে পারবেন। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং যুব সমাজের মানসিক চাপ কমবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে সফলতার জন্য দরকার নিয়মিত মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা যাতে প্রকল্পটি সঠিকভাবে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়।
এক তরুণ শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের মত অনেকের জন্য এই ভাতা শুধু অর্থ নয়, আত্মবিশ্বাসের উৎস। আমরা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য আরও উৎসাহিত বোধ করছি।”
রাজ্যের যুব সমাজের জন্য এই স্কিমে মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা দেওয়ার ঘোষণাটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। তবে এর সঠিক বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সফল হলে রাজ্যের যুব সমাজের জীবনযাত্রায় দৃঢ় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: Google News WB


