পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যালয়গুলোর জন্য বিদ্যান্জলি প্রকল্প কেন বাতিল করল কেন্দ্র সরকার





পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যালয়গুলোর জন্য বিদ্যান্জলি প্রকল্প কেন বাতিল করল কেন্দ্র সরকার

পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যালয়গুলোর জন্য বিদ্যান্জলি প্রকল্প কেন বাতিল করল কেন্দ্র সরকার

গত কয়েক মাস ধরে পশ্চিমবঙ্গের অনেক বিদ্যালয় ও শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত মানুষের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কেন্দ্র সরকারের ‘বিদ্যান্জলি’ প্রকল্প। এই প্রকল্পটি মূলত ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার এবং স্কুলগুলোর ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত ছিল। তবে সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার এই প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে, যা শিক্ষাঙ্গনের বিভিন্ন স্তরে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

বিদ্যান্জলি প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও বাতিলের কারণ

বিদ্যান্জলি প্রকল্পটি ডিজিটাল শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে শুরু হয়েছিল। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়গুলোকে ইন্টারনেট সুবিধা, স্মার্ট ক্লাসরুম, এবং ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী প্রদান করা হতো। তবে কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, বাজেটের সীমাবদ্ধতা, প্রকল্পের বাস্তবায়নে কিছু অনিয়ম ও কার্যকারিতার অভাবের কারণে এই উদ্যোগ স্থগিত রাখা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রকের এক আধিকারিকের কথায়, “আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রতিটি বিদ্যালয় ডিজিটাইজড করা, কিন্তু বাস্তবায়নে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। তাই আমরা এখন প্রকল্প পুনর্বিবেচনা করছি।”

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা

বিদ্যান্জলি প্রকল্পের বাতিল ঘোষণার পরে অনেক শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। কলকাতার এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্রীমতি রঞ্জনা দাস বলেন, “আমরা এই প্রকল্প থেকে অনেক আশা করেছিলাম। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলোতে ডিজিটাল শিক্ষা পৌঁছানোর সুযোগ কম। প্রকল্প বাতিল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আধুনিক শিক্ষার সুযোগ নষ্ট হতে পারে।”

অন্যদিকে, কিছু শিক্ষক মনে করছেন যে প্রকল্পটি যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া শুরু হয়েছিল, তাই বাতিল হওয়াই ভালো। সল্টলেকের এক শিক্ষিকা, অর্পিতা বর্মন বলেন, “আমাদের স্কুলে প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছিল না। প্রকল্প চালু হলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতো শিক্ষকমণ্ডলী।”

শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি জটিল। কলকাতার এক দশম শ্রেণির ছাত্র, সৌম্য ঘোষ জানান, “আমরা অনলাইনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা পেতে চাই। বিদ্যান্জলি বাতিল হওয়ায় আমাদের ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ কমে যাবে, যা হতাশাজনক।”

অভিভাবকদের উদ্বেগ ও আশা

অভিভাবকদের মধ্যেও প্রকল্প বাতিলের খবর নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর। কলকাতার এক অভিভাবক, সুমিত্রা সেন বলেন, “বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি ছাড়া শিক্ষার ভাবনা অসম্ভব। সরকার যদি দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না নেয়, তবে আমাদের সন্তানদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।”

তবে কিছু অভিভাবক আশা প্রকাশ করেছেন যে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন করে আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত প্রকল্প নিয়ে আসবে। “প্রকল্প বাতিল হলেও এটা শিক্ষার উন্নতির জন্য একটি নতুন সুযোগ হতে পারে,” মন্তব্য করেন হাওড়ার আরেক অভিভাবক, বিকাশ মিত্র।

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থায় ভবিষ্যত পরিকল্পনা

কেন্দ্র সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারও ডিজিটাল শিক্ষার ক্ষেত্রে নিজস্ব উদ্যোগ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, “আমরা বিদ্যান্জলি প্রকল্প বাতিল হলেও ডিজিটাল শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করছি। রাজ্যের স্কুলগুলোর ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নত করার জন্য রাজ্য পর্যায়ে আরও উদ্যোগ নেয়া হবে।”

বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। ডিজিটাল বিভাজন কাটিয়ে উঠে শিক্ষার্থীদের সর্বসাধারণের জন্য আধুনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

উপসংহারে বলা যায়, বিদ্যান্জলি প্রকল্প বাতিল হলেও শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি একটি যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য।

সূত্র: Google News WB


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

ঘোড়াডুমের পাঠচক্রে যুক্ত হোন

বাংলার ইতিহাস, লোকঐতিহ্য, স্থাপত্য, ও শিল্পভাবনা নিয়ে তথ্যভিত্তিক, দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা