কাটোয়া স্টেশনে ট্রেনের কামরায় আগুন লেগে আতঙ্ক, দমকল দ্রুত পৌঁছেছে
ঘটনার বিবরণ ও সময়সূচি
২৭ জুন ২০২৪, বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে কাটোয়া রেলস্টেশনের একটি প্ল্যাটফর্মে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের কামরায় আগুন লেগে যায়। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরের এই রেলস্টেশনে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে ট্রেনটি কলকাতা থেকে আসছিল। ঘন্টা মাত্রার মধ্যেই দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রাথমিক তদন্ত অনুসারে, আগুন লাগার কারণ হিসেবে ইলেকট্রিক্যাল শর্ট সার্কিটকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার সময় ট্রেনটি কাটোয়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল এবং যাত্রীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
দমকল ও উদ্ধার কার্যক্রম
কাটোয়া ফায়ার সার্ভিসের আধিকারিকরা জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে তিনটি ফায়ার ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আগেই দমকল কর্মীরা তা নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। কোনও হতাহতের খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে আগুন লাগার কারণে ট্রেনের দুটি কামরা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে বিভাগের মুখপাত্র শ্রীমতী মণ্ডল জানান, “আমরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত কামরাগুলোর জন্য জরুরি মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। আগুন লাগার কারণ তদন্ত চলছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
রেলওয়ে আইনের ১২৪ ধারা অনুযায়ী, দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ণয়ের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনাস্থলে উপস্থিত যাত্রীরা জানান যে, দ্রুত দমকল বাহিনীর উপস্থিতি তাদের আতঙ্ক কমিয়েছে। অনেকেই প্রশংসা করেছেন রেল স্টাফদের দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য। তবে তারা আশা করেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আগাম সতর্কতা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করবে যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং অন্যান্য ট্রেনের সময়সূচি সাময়িকভাবে সামঞ্জস্য করা হয়েছে যাতে যাত্রীদের যাতায়াত অটুট থাকে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব ও পরামর্শ
রেল বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, ইলেকট্রিক্যাল ত্রুটি থেকে আগুন লাগা রোধে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত পর্যালোচনা অত্যন্ত জরুরি। কাটোয়া স্টেশনের এই ঘটনায় রেলওয়ে সেক্টরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাত্রীবাহী ট্রেনের আগুন লাগার ঘটনা প্রতিরোধে আধুনিক ফায়ার ডিটেকশন সিস্টেম ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীদের উপস্থিতি অপরিহার্য। এছাড়া যাত্রীদেরও জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিক নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: Ei Samay


