পশ্চিমবঙ্গ ক্লাস ১২ পরীক্ষা শুরু, ফোন সঙ্গে নিলে পুরো বছরের ফল বাতিল হতে পারে কেন জানেন কি
পরীক্ষার শুরু ও নতুন নির্দেশিকা
২০২৪ সালের পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (WBBSE ও WBCHSE) কর্তৃক ক্লাস ১২-এর পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রাজ্যের শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তাদের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। তবে এবারের পরীক্ষায় বিশেষ এক নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে যা অনেকের নজর কেড়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করলে পুরো বছরের ফল বাতিল হতে পারে।
এই কঠোর নির্দেশিকা এসেছে শিক্ষাবোর্ডের পক্ষ থেকে যাতে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখা যায়। গত কয়েক বছর ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনৈতিক উপায়ে নম্বর অর্জনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার ফলে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ফোন নিষেধাজ্ঞার পেছনের কারণ ও ঘটনার বিবর্তন
২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে অসাধু প্রক্রিয়ার ঘটনা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। একাধিকবার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনলাইন মাধ্যমে উত্তর আদান-প্রদান করার অভিযোগ ধরা পড়ে। এর ফলে বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়।
২০১৯ সালে একটি বড় প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর বোর্ড প্রথমবারের মতো কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করে। ২০২১ সালে পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়। কিন্তু তারপরও কিছু পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালে এই প্রবণতা আরও বেড়ে যাওয়ায় বোর্ডের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং এই নিয়ম ভঙ্গ করলে ফল বাতিলের শাস্তি দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়।
পরীক্ষা চলাকালীন মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি
২০২৪ সালের পরীক্ষায় পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর চেকিং চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রে প্রবেশের সময় প্রার্থীদের ব্যাগ ও পোশাক স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। মোবাইল ফোন থাকলে তা কেন্দ্রে জমা দিতে হবে। এছাড়া, পরীক্ষাকক্ষেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে।
শিক্ষাবোর্ডের এক মুখপাত্র জানান, “আমরা চাই পরীক্ষার পরিবেশ সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ হোক। মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কেউ নিয়ম ভঙ্গ করে, তাহলে তার পুরো বছরের ফল বাতিল করা হবে।” এই সতর্কতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করলেও, অনেকেই এটিকে স্বাগত জানিয়েছেন কারণ এটি পরীক্ষার মর্যাদা রক্ষায় সহায়ক।
পরবর্তী প্রভাব ও শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া
এই নতুন নিয়মের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই মোবাইল ফোন পরীক্ষার দিন বাড়িতে রেখে পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়েছেন। শিক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যতে অনৈতিক প্রক্রিয়া কমিয়ে আনবে।
তবে কিছু অভিভাবক ও শিক্ষার্থী মেনে নিয়েছেন যে, মোবাইল ফোন ছাড়া পরীক্ষায় ঝুঁকি বেশি। কারণ জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জরুরি অবস্থায় পরীক্ষার পরেই প্রয়োজনীয় যোগাযোগ স্থাপন করা যাবে।
বড় ছবির দিক থেকে এই পদক্ষেপের গুরুত্ব
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থায় এই কঠোর নিয়ম প্রবর্তন একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এটি শুধুমাত্র মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞার বিষয় নয়, বরং শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করার প্রচেষ্টার অংশ। অনৈতিক প্রক্রিয়া বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা এবং নৈতিকতার মূল্যবোধ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
শিক্ষাবোর্ডের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজ্যেও অনুসরণীয় হতে পারে, যেখানে পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে নানা ঝামেলা দেখা দিয়েছে। এভাবে শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।
অতএব, মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ একবার নিয়ম ভঙ্গ হলেই পুরো বছরের ফল বাতিল হয়ে যেতে পারে, যা শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের জন্য বড় ধাক্কা।
সূত্র: Google News WB


