পশ্চিম বাংলায় SIR শুনানি শেষ, ৬৬১০০০ নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা বাড়ছে কী কারণ
SIR শুনানির পটভূমি ও উদ্দেশ্য
পশ্চিম বঙ্গের ২০২৩ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী সংক্রান্ত SIR (Special Intensive Review) শুনানি ২০২৪ সালের জুন মাসে সম্পন্ন হয়েছে। এই শুনানির উদ্দেশ্য ছিল সন্দেহভাজন নাগরিকদের তালিকা চূড়ান্ত করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১ কোটি ২০ লাখের বেশি আবেদনকারীর মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৬১ হাজারের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুনানির ফলাফল ও পরিসংখ্যান
রাজ্যের আধিকারিক সূত্রের খবর, SIR প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত অভিযোগ ও প্রমাণপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে প্রায় ৫.৫% আবেদনকারীর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এই তথ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য নাগরিকত্ব ও অভিবাসন দফতর থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
শুনানির সময় বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ১০ হাজারের বেশি আপত্তি ও প্রতিবাদ পত্র জমা পড়ে। এই আপত্তি গুলো যাচাই-বাছাই করে প্রায় ৭০% আপত্তি খারিজ করা হয়েছে। বাকি ৩০% আপত্তি এখনো পর্যবেক্ষণের অধীনে রয়েছে।
কেন নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা বেড়েছে?
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মকর্তা বলেন, নাম বাদ পড়ার প্রধান কারণ হল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাব বা ভুল তথ্য প্রদান। এছাড়াও, অনেক আবেদনকারীর জন্মস্থান ও নাগরিকত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে, ১৯৭১ সালের পূর্বে জন্মের সঠিক দলিল না থাকা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের সন্দেহ এই তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অন্যতম কারণ।
এছাড়া, কেন্দ্র সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যারা প্রমাণ করতে পারেনি যে তারা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতের অন্যত্র বসবাস করতেন, তাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিবের অফিস থেকে জানানো হয়েছে যে, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আইনি ও প্রশাসনিক নির্দেশিকা মেনে পরিচালিত হয়েছে।
আইনি ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (CAA) অধীনে এবং কেন্দ্র সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী SIR প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রশাসন এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছিল। এই কমিটি প্রত্যেক অভিযোগ ও আপত্তি যাচাই করে রিপোর্ট দাখিল করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিবের অফিস থেকে ২০২৪ সালের ১৫ জুন প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন সকল পক্ষকে যথাযথ শুনানি প্রদান করা হয়েছে এবং আইনগত বিধান মেনে কাজ করা হয়েছে।” এই প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নাগরিকত্ব দফতর একযোগে কাজ করেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও জনসাধারণের ভূমিকা
তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা থাকা ব্যক্তিদের জন্য পুনর্বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, যারা তাদের নাম বাদ পড়েছে তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে তারা সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশিকা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া, ভুল তথ্য থাকলে সংশোধনের জন্য নির্ধারিত সময়ে আবেদন করতে হবে।
সর্বশেষ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন দফতর এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ও জনসচেতনতা কর্মসূচি চালাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এই প্রতিবেদনটি গুগল নিউজ পশ্চিমবঙ্গ বিভাগের বিভিন্ন সরকারি সূত্র ও সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল বিবৃতি থেকে সংগৃহীত তথ্যের উপর ভিত্তি করে রচিত। বিস্তারিত জানতে গুগল নিউজ পশ্চিমবঙ্গ থেকে।


