পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত নার্সের হৃদরোগে মৃত্যু, স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য
নিপাহ ভাইরাস আক্রান্ত নার্সের মৃত্যু: সরকারি তথ্য
পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য মন্ত্রক মঙ্গলবার জানিয়েছে, রাজ্যের একজন নারী নার্স নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হৃদরোগে মৃত্যু বরণ করেছেন। এই তথ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে প্রকাশ করা হয়েছে। নার্সটির বয়স ৩৫ বছর এবং তিনি কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নার্সটি নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা
নিপাহ ভাইরাস একটি zoonotic ভাইরাস, যা প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রমিত হয় এবং মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঘটনা কম হলেও মারাত্মক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর তথ্য অনুযায়ী, নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতিমধ্যে সংক্রমণ রোধে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও আইসোলেশন নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জানানো হয়, বর্তমানে রাজ্যে মোট ১২ জনের নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সরকারি নির্দেশিকা এবং জনস্বাস্থ্য সতর্কতা
পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা যায়, রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিপাহ ভাইরাসের রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ প্রটোকল তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য পিপিই (Personal Protective Equipment) সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
সাথে, জনগণকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা বন্যপ্রাণী ও ফলমূলের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলেন এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের সাথে সরাসরি সংস্পর্শ এড়ানো হয়। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর নিয়মিতভাবে জনসচেতনতা ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ
নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত শনাক্তকরণ ও আইসোলেশন ছাড়া সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী, রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ২১ দিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর প্রতিদিন সংক্রমণের পরিসংখ্যান আপডেট করছে এবং রোগী চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সূত্র: Twitter – HT Tweets


