পশ্চিমবঙ্গে প্রথম নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যু ২৫ বছরের নার্সের সংক্রমণ কী কারণ ছিল
পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৫ বছরের এক নার্সের মৃত্যুর খবর সাম্প্রতিক সময়ে জনজীবনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনা শুধু স্বাস্থ্যকর্মী সম্প্রদায়কেই নয়, সাধারণ মানুষকেও আতঙ্কিত করেছে। নিপাহ ভাইরাস, যা আগে থেকে দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলে দেখা যেত, এবার পশ্চিমবঙ্গে তার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে।
নিপাহ ভাইরাসের প্রাথমিক কারণ ও সংক্রমণের পথ
নিপাহ ভাইরাস মূলত বাদুড় থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। তবে মানব থেকে মানব সংক্রমণের ঘটনাও ঘটতে পারে, বিশেষ করে যারা আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে আসে। মৃত নার্সের ক্ষেত্রে, তিনি করোনা মহামারির সময় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি আক্রান্ত রোগীর সেবা দেওয়ার সময় ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। সংক্রমণের কারণ হিসেবে রক্ষা ব্যবস্থা যথাযথভাবে মানা না হওয়া বা ভাইরাস বহনকারী রোগীর সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শকে দায়ী করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) অপরিহার্য। কিন্তু হাসপাতালের চাপ ও সরঞ্জামের অভাবে মাঝে মাঝে এসব নিয়ম যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয় না।
স্বাস্থ্যকর্মীদের মানসিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় নার্সিং সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, “আমাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ছুড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা রোগীদের সেবা দিতে চাই, কিন্তু নিজেদের সুরক্ষাও জরুরি।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নার্স জানান, “প্রতিদিন কাজ করতে গিয়ে ভয় হয়, কিন্তু দায়িত্বের কারণে থেমে থাকা যায় না।”
সাধারণ মানুষও এই খবর শুনে উদ্বিগ্ন হয়েছেন। কলকাতার একটি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সুমন দাস বলেন, “যদি এমন রোগ দ্রুত ছড়ায়, তাহলে আমরা কীভাবে নিরাপদ থাকতে পারি? সরকার ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তৎপরতা প্রয়োজন।” তবে অনেকেই স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের সাহসিকতা ও ত্যাগের প্রশংসা করছেন।
সরকারি পদক্ষেপ ও জনসচেতনতা
পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। আক্রান্ত নার্সের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। এছাড়াও, হাসপাতালগুলিতে অধিক সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জনগণকে সচেতন থাকার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, “ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ জরুরি।”
মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই সংকটের প্রভাব
এই ধরনের সংক্রমণ শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি মানুষের জীবনে মানসিক চাপ ও সামাজিক পরিবর্তনও নিয়ে আসে। আক্রান্ত নার্সের পরিবার ও সহকর্মীরা শোকাহত এবং উদ্বিগ্ন। তার পরিবার জানায়, “আমরা তার ত্যাগকে ভুলব না। তবে এই রোগের কারণে আমাদের জীবনে যে শূন্যতা এসেছে, তা পূরণ করা কঠিন।”
সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধরনের সংকটের সময় একে অপরের প্রতি সহানুভূতি ও সহযোগিতার মনোভাব বৃদ্ধি পায়। অনেকেই স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এগিয়ে আসছেন, আবার কেউ কেউ তথ্যের অভাবে ভুল ধারণায় ভোগছেন। তাই সঠিক তথ্য প্রচার ও মানবিক সহায়তা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
পশ্চিমবঙ্গের শহুরে জনসাধারণের জন্য এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়।
নিপাহ ভাইরাসের মতো সংক্রমণ মোকাবিলায় মানবিক সহানুভূতি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ একসঙ্গে চলতে হবে। তবেই আমরা এই সংকটকে কাটিয়ে উঠতে পারব।
সূত্র: গুগল নিউজ পশ্চিমবঙ্গ


