পুনেতে বাংলার কর্মী খুন, ভাষা ও পরিচয়ের জন্য হত্যাকাণ্ড দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধায়
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
২০২৪ সালের জুন মাসে পুনে শহরে একজন বাঙালি শ্রমিক খুন হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায় এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড যা মূলত ভাষা ও পরিচয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে।
আধিকারিক বর্ণনা ও তদন্তের অগ্রগতি
পুনে শহরের পুলিশ কমিশনারের অফিস থেকে জানানো হয়েছে, নিহত ব্যক্তি একজন ৩৫ বছর বয়সী বাঙালি শ্রমিক, যিনি পুনে শহরের একটি নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করতেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় তিনি কাজ থেকে ফেরার পথে হামলার শিকার হন। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুনে পুলিশ কমিশনার অতুল কুমার বলেছেন, “আমরা দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদঘাটন করার চেষ্টা করছি। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা।”
মমতা বন্দ্যোপাধায়ের প্রতিক্রিয়া ও দাবি
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায় এই হত্যাকাণ্ডকে ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি নৃশংস ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষের প্রতি এই ধরনের সহিংসতা মেনে নেওয়া যায় না। এটা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি আমাদের ভাষা ও সাংস্কৃতিক অধিকারকে লঙ্ঘন করার চেষ্টা।”
তিনি কেন্দ্র ও মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকারকে দ্রুত তদন্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি, তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি সম্প্রদায়কে সংহত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং জাতীয় সংবাদ সংস্থাগুলোর সাংবাদিকরা পুনে পুলিশ কমিশনারের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছেন, তদন্তে ধাপে ধাপে হত্যাকাণ্ডের পেছনের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনরা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছিলেন।
মহারাষ্ট্রের রাজ্য সরকারও এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিশেষ নজর দিচ্ছে এবং প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি করেছে যাতে পুনেতে অশান্তি না ছড়ায়। রাজ্য সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা শান্তি বজায় রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবরকম পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
পুনেতে বাঙালি সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া
পুনেতে বসবাসরত বাঙালি সম্প্রদায় এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে উদ্বিগ্ন। স্থানীয় বাঙালি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের ভাষা ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষা করা অপরিহার্য। এই হত্যাকাণ্ড আমাদের জন্য একটি গভীর ধাক্কা। আমরা পুনে প্রশাসন ও কেন্দ্র সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করার।”
স্থানীয় বাঙালি কর্মীরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুনে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ধরনের ঘটনা এড়াতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে সংহতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
উপসংহার
পুনেতে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তিগত হত্যাকাণ্ড নয়, এটি ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি আঘাত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়ের বক্তব্য এবং পুনে ও মহারাষ্ট্র প্রশাসনের তৎপরতা এই ঘটনার গুরুত্বকে প্রমাণ করে। এখন সময় এসেছে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের।
সূত্র: Google News WB


