বঙ্গলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিদেশি থাকলে DEO, ERO, AEROদের বিরুদ্ধে মামলা হুমকি ইসি দিয়েছে





বঙ্গলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিদেশি থাকলে DEO, ERO, AEROদের বিরুদ্ধে মামলা হুমকি ইসি দিয়েছে

বঙ্গলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিদেশি থাকলে DEO, ERO, AEROদের বিরুদ্ধে মামলা হুমকি ইসি দিয়েছে

কি ঘটেছে?

ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসি) পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় বিদেশি নাগরিক বা অবৈধ ভোটার থাকলে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO), নির্বাচন রিটার্নিং অফিসার (ERO) এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার (AERO)দের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এই নির্দেশ ইসি থেকে রাজ্য নির্বাচন দফতরে পাঠানো হয়েছে। ইসি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ভোটার তালিকায় বিদেশি বা অবৈধ ব্যক্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে মামলা হবে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?

ভোটার তালিকা সঠিক ও স্বচ্ছ না হলে নির্বাচনের মৌলিক স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়। পশ্চিমবঙ্গের মতো বড় ও জনবহুল রাজ্যে অবৈধ ভোটার থাকলে তা নির্বাচনী ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা সাধারণ নাগরিকের ভোটাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ছাড়া, ভোটার তালিকা তৈরির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের প্রতি যথাযথ জবাবদিহিতার অভাব থাকলে ভবিষ্যতে ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়মের আশঙ্কা বাড়ে। এই হুমকি একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করবে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং ভোটার তালিকা যথাযথভাবে আপডেট হয়।

পটভূমি ও প্রাসঙ্গিকতা

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক ও অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এবং পরে অবৈধ ভোটার বা বিদেশি নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা বেড়েছে। নির্বাচন কমিশন অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদে জোর দিয়েছে এবং অবৈধ ভোটার শনাক্তকরণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কাঠামোতে DEO, ERO ও AEROরা ভোটার তালিকা প্রস্তুত এবং যাচাই প্রক্রিয়ার মূল স্তম্ভ। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন।

এছাড়া, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পূর্বের নির্বাচনে ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগের ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে ইসি এই কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইসি বারবার প্রশাসনিক স্তরে দায়িত্বশীলতার ওপর জোর দিয়েছে।

পরবর্তী ধাপ কী হতে পারে?

নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনার পর রাজ্যের নির্বাচন দফতর ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা ভোটার তালিকা পুনরায় যাচাই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া অবৈধ বা বিদেশি ভোটার শনাক্তকরণে প্রযুক্তি ও মাঠ পর্যায়ের তদারকি বাড়ানো হবে। রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর চাপ বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও এটি ভোটার তালিকার গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে ভোটার তালিকা নিয়ে যে কোনও অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। তবে, এই পদক্ষেপের ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়সীমা ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা কিছুটা বাড়তে পারে, যা নির্বাচনী প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ভূমিকা ও নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব

DEO, ERO, ও AERO হলেন নির্বাচন প্রক্রিয়ার মূল স্তম্ভ যারা ভোটার তালিকা তৈরি ও যাচাইয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। DEO বা জেলা নির্বাচন আধিকারিক সাধারণত নির্বাচনী জেলার প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে কাজ করেন। ERO বা নির্বাচন রিটার্নিং অফিসার নির্বাচনী এলাকা অনুযায়ী ভোটার তালিকা প্রস্তুত এবং ভোটের সুষ্ঠু পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন। AERO বা সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা EROদের সহায়ক হিসেবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন।

ভারতের নির্বাচন কমিশন দীর্ঘদিন ধরে ভোটার তালিকা হালনাগাদে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে আসছে। পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে যেখানে জনসংখ্যা ঘনত্ব এবং অভিবাসন প্রবাহ বেশি, সেখানে ভোটার তালিকা সঠিক রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ। ইসি’র এই নির্দেশনা নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: Google News Bengal


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More
articles