মমতা সরকার রাজ্যে কেন্দ্রের ১০ হাজার কোটি টাকা শিক্ষাবৃত্তি তহবিল থেকে বঞ্চিত করেছে কি
ঘটনাটি কী?
সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দাবি উঠেছে যে, পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে কেন্দ্র সরকার থেকে বরাদ্দকৃত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার শিক্ষাবৃত্তি তহবিল রাজ্যটি পায়নি। এই তহবিল মূলত শিক্ষার্থী ও ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্য প্রশাসন সময়মতো প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র জমা না দেওয়ার ফলে এই তহবিল আটকে পড়েছে। ফলে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এই অর্থের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শিক্ষাবৃত্তি তহবিল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অর্জনে সহায়তা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই অর্থের গুরুত্ব অপরিসীম। পশ্চিমবঙ্গের বড় শহর ও শহরতলীতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই তহবিলের ওপর ভর করে টিউশন, বই, ও অন্যান্য শিক্ষাগত খরচ চালিয়ে থাকে। যদি এই তহবিল রাজ্যে পৌঁছতে না পারে, তাহলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বাধা আসতে পারে এবং শিক্ষার সুযোগ-অবকাঠামোর ক্ষেত্রে অসমতা আরও বাড়তে পারে। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের মানবসম্পদ বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পটভূমি ও প্রাসঙ্গিক তথ্য
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে রাজ্যে বিভিন্ন শিক্ষানীতি গ্রহণ করা হয়েছে, তবে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সম্পর্ক মাঝে মাঝে টানাপোড়েনপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষাবৃত্তি তহবিল সংক্রান্ত এই বিতর্কের পেছনে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যের অংশগ্রহণ ও তহবিল গ্রহণের ক্ষেত্রে গতেও কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এই তহবিল মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষানীতি ও রাজ্যের বাস্তবায়নের সমন্বয় প্রক্রিয়ার অংশ। অতীতে অন্যান্য রাজ্যেও কখনো কখনো এই ধরনের বিতর্ক হয়েছে, যেখানে তথ্য জমা দেওয়া ও তহবিল বরাদ্দের মধ্যে সময়সীমার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে অর্থ আটকে গিয়েছে।
শিক্ষাবৃত্তি তহবিলের অর্থ সাধারণত কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনে বিভিন্ন প্রকল্প যেমন “স্টুডেন্ট এড স্কিম” বা “ন্যাশনাল স্কলারশিপ” ইত্যাদির মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের মতো জনবহুল রাজ্যে এই অর্থের সঠিক ও সময়মতো বিতরণ শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরবর্তী কী হতে পারে?
এই বিতর্কের স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে তথ্য আদান-প্রদান কার্যকর করতে হবে যাতে শিক্ষাবৃত্তি তহবিল সময়মতো শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়। রাজ্যের তরফ থেকে যদি দ্রুত প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সরবরাহ করা হয়, তাহলে অবরুদ্ধ তহবিল মুক্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার উভয়ের উচিত পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষাবৃত্তি তহবিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে এই ধরনের সমস্যা এড়াতে স্বচ্ছতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নিয়মাবলী প্রণয়ন করতে পারে উভয় পক্ষ।
শিক্ষাবৃত্তি তহবিল নিয়ে এই বিতর্কের ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় প্রভাব পড়া রোধ করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন ও সমতা নিশ্চিত করতে রাজ্য ও কেন্দ্রের নীতিনির্ধারকদের আরও বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত।
সূত্র: Google News WB


