সুপ্রিম কোর্টের আদেশেও মেলেনি পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া DA-এর ২৫%, মুখ্য ও অর্থসচিবকে নোটিস কেন?
বিষয়টি কী এবং কেন তা গুরুত্বপূর্ণ?
গত কয়েকবছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীরা তাদের বেতন কাঠামোর একটি অংশ হিসেবে ডিএ (Dearness Allowance) পেয়ে আসছেন। তবে, ২০২১ সালের পর থেকে পুরনো বকেয়া DA-এর ২৫ শতাংশ পরিশোধ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসে এবং সেখানে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয় বকেয়া DA পরিশোধের জন্য। তবুও, রাজ্য সরকার তা কার্যকর করেনি।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য বকেয়া DA-এর এই বিলম্ব শুধু আর্থিক সমস্যাই তৈরি করেনি, বরং ন্যায়বিচার ও সরকারি প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা কমিয়েছে। যে কারণে, বিষয়টি শুধুমাত্র কর্মচারীদের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং সরকারি প্রশাসনের কার্যকারিতা ও দায়িত্বের প্রশ্নও তুলেছে।
কী হয়েছে সাম্প্রতিক ক্ষেত্রে?
সম্প্রতি, বকেয়া DA-এর ২৫ শতাংশ পরিশোধ না হওয়ায় রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং অর্থ সচিবকে contempt of court বা আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই নোটিশটি পাঠিয়েছেন সেই কর্মচারীরা, যাদের পক্ষ থেকে মামলা চলছিল এবং যারা সুপ্রিম কোর্টের আদেশের বাস্তবায়ন চেয়েছিলেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন বকেয়া DA পরিশোধ করা হয়নি এবং কেন রাজ্য প্রশাসন আদেশের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করছে। এই ধরনের পদক্ষেপ আদালতের প্রতি সম্মান রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে, এটি দেখায় যে সরকারি কর্মচারীদের অধিকার ও দাবিগুলো কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সরকারি বকেয়া পরিশোধের প্রভাব
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে রাজ্যের রাজস্ব প্রবাহে কিছুটা অসুবিধা দেখা দিয়েছে। এর ফলে অনেক সময় সরকারি বেতন ও ভাতা পরিশোধে বিলম্ব ঘটেছে। তবে, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ থাকা সত্ত্বেও DA-এর বকেয়া পরিশোধ না হওয়া প্রশ্ন তোলে প্রশাসনিক অগ্রাধিকার ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়ে।
সরকারি কর্মচারীরা পশ্চিমবঙ্গের সরকারি পরিষেবা চালাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বকেয়া DA না পেলে তাদের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ে এবং মানসিক চাপ বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদে, এটি সরকারি পরিষেবার মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা সাধারণ নাগরিকদের সেবায় প্রতিফলিত হয়।
নাগরিকদের জন্য এর অর্থ কী?
পশ্চিমবঙ্গের শহুরে নাগরিকদের জন্য এই বিষয়টি সরাসরি অর্থনৈতিক এবং সামাজিক প্রভাব ফেলে। সরকারি কর্মচারীরা শহরের বিভিন্ন স্তরে সেবা প্রদান করেন, যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশাসন ইত্যাদি। তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হলে সেবার মানে প্রভাব পড়তে পারে।
তাছাড়া, সরকারের আর্থিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনিয়ম বা বিলম্ব নাগরিকদের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থাহ্রাস ঘটায়। তাই, নাগরিকরা সচেতন থাকা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আদালতের আদেশের বাস্তবায়ন নিয়ে নজর রাখা জরুরি। সক্রিয় নাগরিক সমাজ ও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রত্যাশা
বর্তমানে আদালতের নোটিশের পর রাজ্য প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া কী হবে তা দেখার বিষয়। সাধারণত, আদালতের আদেশ অমান্যের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আশা করা যায়, এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন দ্রুত বকেয়া DA পরিশোধের ব্যবস্থা করবে।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে, কর্মচারীদের অধিকার রক্ষা এবং সরকারি কর্মসংস্থানের মান উন্নত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। নাগরিক হিসেবেও আমাদের উচিত এই প্রক্রিয়াগুলো মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করা এবং যেন সেবা প্রদানে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে তা নিশ্চিত করা।
সুত্র: Ei Samay


