কলকাতায় তৃণমূলের বাংলায় বাজেট বক্তৃতা নির্দেশনা দলীয় কাউন্সিলরদের উর্দু ও হিন্দি ভাষায় কী হবে?




কলকাতায় তৃণমূলের বাংলায় বাজেট বক্তৃতা নির্দেশনা দলীয় কাউন্সিলরদের উর্দু ও হিন্দি ভাষায় কী হবে?

কলকাতায় তৃণমূলের বাংলায় বাজেট বক্তৃতা নির্দেশনা দলীয় কাউন্সিলরদের উর্দু ও হিন্দি ভাষায় কী হবে?

কলকাতা পুরসভার বাজেট অধিবেশনে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কাউন্সিলরদের বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলের প্রধান হুইপের পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে বাজেট আলোচনায় ভাষাগত ঐক্য বজায় থাকে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ হয়।

তবে, কলকাতার মতো বহু ভাষাভাষী শহরে উর্দু ও হিন্দি ভাষায় বক্তৃতা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই নির্দেশনার ফলে দলীয় কাউন্সিলররা কীভাবে নিজেদের ভাষাগত পরিচয় ও জনসংযোগ রক্ষা করবেন, সেটিও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কি ঘটেছে

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান হুইপ কলকাতা পুরসভার বাজেট অধিবেশনের আগে দলের সকল কাউন্সিলরকে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, বাজেট বক্তৃতা শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় হতে হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ভাষাগত ঐক্য রক্ষা এবং বাজেট প্রক্রিয়ার সরকারি নথিপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা উল্লেখ করা হয়েছে।

কলকাতা পুরসভায় বিভিন্ন ভাষাভাষী কাউন্সিলর থাকলেও দলীয় নির্দেশনায় উর্দু বা হিন্দি ভাষায় বক্তৃতা না করার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে উর্দু ও হিন্দি ভাষাভাষী কাউন্সিলরদের কিছু প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মূল সংখ্যাসূচক তথ্য

কলকাতা পুরসভায় মোট 144 জন কাউন্সিলর রয়েছেন। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা প্রায় 70 জন।

বাংলা ভাষাভাষী কাউন্সিলর সংখ্যা আনুমানিক 60%। বাকি 40% বিভিন্ন ভাষাভাষী, যার মধ্যে উর্দু ও হিন্দি ভাষাভাষী কাউন্সিলরের সংখ্যা প্রায় 30%।

বাজেট অধিবেশনে বক্তৃতার জন্য সময় সাধারণত কাউন্সিলর প্রতি ৫ থেকে ৭ মিনিট বরাদ্দ থাকে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

কলকাতা একটি বহুভাষিক শহর, যেখানে বাংলা, উর্দু, হিন্দি, ইংরেজিসহ আরও অনেক ভাষায় মানুষ বসবাস করে। প্রশাসনিক ভাষা হিসেবে বাংলার গুরুত্ব থাকলেও, বিভিন্ন ভাষাভাষীর প্রতিনিধিদের ভাষাগত স্বাতন্ত্র্য ও জনসংযোগ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

তৃণমূলের এই নির্দেশনা বাজেট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে হলেও, এটি ভাষাগত বৈচিত্র্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ভাষাগত ঐক্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বহুমাত্রিকতাও শহরের সামাজিক কাঠামোর অংশ। তাই এই নির্দেশনার প্রভাব ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা জরুরি।

পরবর্তী ধাপ কী

বর্তমানে এই নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে আগামী বাজেট অধিবেশনের জন্য। কাউন্সিলরদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করা হতে পারে এবং প্রয়োজনে দলীয় পর্যায়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা হতে পারে।

পুরসভা প্রশাসন বাজেট অধিবেশনের সময় ভাষাগত নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। কাউন্সিলরদের বক্তব্যের অনুবাদ বা সংক্ষিপ্ত সারাংশ বাংলায় প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা করা হতে পারে, যাতে প্রশাসনিক নথিপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

নাগরিকদের জন্য কী জানা জরুরি

কলকাতাবাসী নাগরিকদের জানা প্রয়োজন যে, বাজেট অধিবেশনে বাংলা ভাষায় বক্তৃতার নির্দেশনার ফলে বাজেটের বিষয়বস্তু আরও সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ পাবে। এতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা বাড়বে।

যাঁরা বিভিন্ন ভাষায় বক্তব্য শুনতে অভ্যস্ত, তাঁদের জন্য অনুবাদ বা সারসংক্ষেপের ব্যবস্থা থাকলে তা সুবিধাজনক হবে। নাগরিকরা বাজেট অধিবেশনের তথ্য ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সরকারি ওয়েবসাইট বা স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে নিয়মিত আপডেট পেতে পারেন।

এই পরিবর্তনের ফলে নাগরিক প্রতিনিধিদের ভাষাগত পরিচয় বা জনসংযোগে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে, তা দলীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হতে পারে।

সাধারণত বাজেট অধিবেশনে নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হলেও, বাজেট সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ ও জনসাধারণের মতামত গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট সময় ও পদ্ধতি থাকে। নাগরিকরা সেগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকলে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব পালনে সুবিধা হবে।

নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা নাগরিকদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি এই মুহূর্তে ঘোষণা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে বাজেট আলোচনায় ভাষাগত নীতি নিয়ে আরও স্পষ্ট নির্দেশনা আসতে পারে।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More
articles