অসুস্থ স্ত্রীর মৃত্যুর আগে স্বামীকে থানায় নেওয়ার কারণ কী জানালো ঢাকা পুলিশ কমিশনার স্বাস্থ্য কমিশনের রিপোর্ট চ




অসুস্থ স্ত্রীর মৃত্যুর আগে স্বামীকে থানায় নেওয়ার কারণ কী জানালো ঢাকা পুলিশ কমিশনার স্বাস্থ্য কমিশনের রিপোর্ট চ

অসুস্থ স্ত্রীর মৃত্যুর আগে স্বামীকে থানায় নেওয়ার কারণ কী জানালো ঢাকা পুলিশ কমিশনার স্বাস্থ্য কমিশনের রিপোর্ট চ

ঘটনার পটভূমি ও পুলিশি পদক্ষেপ

ঢাকা শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক অসুস্থ নারীর মৃত্যুর পর তার স্বামীকে থানায় নেওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, স্বামীকে হাসপাতালে যাওয়ার অনুমতি না দিয়ে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়, যা নারীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকা পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সোমবার এক প্রেস বিবৃতিতে জানান, ওই ব্যক্তিকে থানায় নেওয়ার কারণ ছিল একটি অপরাধ তদন্তের অংশ হিসেবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ। পুলিশি প্রক্রিয়ায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, তবে তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছিল।

স্বাস্থ্য কমিশনের রিপোর্ট চাওয়া

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন (বিএইচসি) ঢাকা পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। কমিশনের মুখপাত্র ডা. সুমন রহমান জানান, “আমরা তদন্ত করব যে, ওই ব্যক্তির থানায় নেওয়া ও নারীর চিকিৎসায় কোনও প্রভাব পড়েছে কি না। স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তিতে বাধা থাকলে তার দায়িত্বরতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্বাস্থ্য কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নারীটির চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যাদি, হাসপাতালের চিকিৎসক রিপোর্ট, এবং পুলিশের ঘটনার বিবরণ সমন্বিত একটি রিপোর্ট আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে।

আইনি ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ১৬৭ ধারা অনুসারে, তদন্তের জন্য পুলিশকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ব্যক্তিকে সাময়িক আটক করার অধিকার রয়েছে, তবে তা অবশ্যই মানবাধিকার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে করতে হবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “যদি পুলিশি ব্যবস্থা কোনো ব্যক্তির চিকিৎসায় বাধা সৃষ্টি করে, তবে তা সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত জীবন অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।” সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

পুলিশ ও হাসপাতালের প্রতিক্রিয়া

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, “নারীটির শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল। তার স্বামী হাসপাতালের অনুমতি ছাড়া থানায় নেওয়া হয়েছে, যা আমাদের চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি করেছে।”

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা স্বাস্থ্য কমিশনের নির্দেশনা মেনে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব। আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় আমাদের কর্তব্য অবিচল।”

সমাজে প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

সরকারি পর্যায়ে এই ঘটনা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তী সময়ে পুলিশি প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More
articles

ঘোড়াডুমের পাঠচক্রে যুক্ত হোন

বাংলার ইতিহাস, লোকঐতিহ্য, স্থাপত্য, ও শিল্পভাবনা নিয়ে তথ্যভিত্তিক, দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা