পুরসভা পরিচালিত শেল্টার হোমে বাসি খাবার, আবাসিকরা কেন ছেড়ে যাচ্ছেন কলকাতায়
শেল্টার হোমের অবনতি: বাসিন্দাদের অভিযোগ
কলকাতার একাধিক পুরসভা পরিচালিত শেল্টার হোমে বাসিন্দারা বাসি ও নষ্ট খাবার সরবরাহের অভিযোগ করেছেন। Ei Samay-এর প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই শেল্টার হোমগুলোতে খাবারের মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবের কারণে আবাসিকরা তাদের থাকার স্থান ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষ করে কলকাতার উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের কয়েকটি শেল্টার হোমে এই সমস্যা বেশি প্রকট।
বাসিন্দারা জানান, খাবারের গন্ধ ও স্বাদে স্পষ্টভাবে বাসি এবং নষ্ট খাদ্য সামগ্রী পাওয়া যায়। এর ফলে অনেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকির শিকার হচ্ছেন। শেল্টার হোমের এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা এখানে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে এসেছি, কিন্তু খাবারের মান দেখে আমাদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।”
সরকারি পরিসংখ্যান ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমাজ কল্যাণ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় মোট ১৫টি পুরসভা পরিচালিত শেল্টার হোম রয়েছে, যেখানে প্রায় ১,২০০ জন আবাসিক থাকেন। গত তিন মাসে তিনটি শেল্টার হোমে খাবারের মান নিয়ে ৪৫টি অভিযোগ দাখিল হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সমাজ কল্যাণ দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “খাবারের মান নিয়ে যে অভিযোগ এসেছে, তা গুরুত্বসহকারে নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পুরসভা কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”
তবে, শেল্টার হোম পরিচালনাকারী পুরসভাগুলো থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আইনি ও প্রশাসনিক নির্দেশিকা
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমাজ কল্যাণ নির্দেশিকা অনুযায়ী, শেল্টার হোমগুলিতে আবাসিকদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত এবং পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ বাধ্যতামূলক। ২০১৯ সালের ‘শেল্টার হোম পরিচালনা ও মান নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা’ অনুসারে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিদর্শন ও খাবারের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।
শেল্টার হোমগুলোর খাবার সরবরাহ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি পুরসভা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অধীনে রয়েছে। খাদ্য ও স্বাস্থ্য বিভাগের এক আধিকারিক জানান, “যদি বাসিন্দাদের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি জরিমানা আরোপ করা হতে পারে।”
বাসিন্দাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও প্রভাব
খাবারের মানের অবনতি ও পরিষেবা ঘাটতির কারণে বেশ কয়েকজন বাসিন্দা শেল্টার হোম ত্যাগ করে আত্মীয়স্বজনের কাছে চলে গেছেন অথবা অন্য আশ্রয়স্থল খুঁজছেন। Ei Samay-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত দুই মাসে অন্তত ২৫ শতাংশ আবাসিক শেল্টার হোম ছেড়ে গেছেন।
অন্যদিকে, যারা থেকে যাচ্ছেন তারা জানান যে, এই পরিস্থিতি তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সমাজকল্যাণ সংস্থাগুলোও এই সমস্যার সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
স্থানীয় বাসিন্দারা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো শেল্টার হোমগুলোর মান উন্নয়নের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মান বজায় রাখা হবে।
সরকারি পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়ে থাকায় আগামী সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট পুরসভা ও সমাজ কল্যাণ দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে খাবারের গুণগত মান, স্বাস্থ্যবিধি এবং আবাসিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।
সূত্র: Ei Samay


