ধর্মতলা গ্র্যান্ড হোটেল সংস্কারে হকার সরানোর পরিকল্পনা ও পুরসভার নতুন রূপরেখা কী হবে

“`html

ধর্মতলা গ্র্যান্ড হোটেল সংস্কারে হকার সরানোর পরিকল্পনা ও পুরসভার নতুন রূপরেখা কী হবে

কলকাতার ধর্মতলা এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড হোটেলটি সংস্কারের জন্য কলকাতা পুরসভা হকারদের ধাপে ধাপে স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, সংস্কার কাজকে সহজতর করতে এবং ভবনের ঐতিহ্য রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংস্কারের এই উদ্যোগের ফলে ধর্মতলা এলাকার অবকাঠামো ও জনসাধারণের চলাচলে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পুরসভা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা জানিয়েছেন, হকারদের স্থানান্তর ও নতুন রূপরেখার মাধ্যমে সংস্কারের কাজটি দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এই প্রকল্পের ফলে ধর্মতলা এলাকা আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন হবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও সহায়ক হবে। তবে স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় হকারদের সুবিধা ও অধিকার রক্ষায় বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে।

কি ঘটেছে

ধর্মতলা গ্র্যান্ড হোটেল সংস্কারের জন্য কলকাতা পুরসভা একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে হকারদের ধাপে ধাপে স্থানান্তর। পুরসভা জানিয়েছে, সংস্কারের কাজ শুরু করার আগে হকারদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন যাতে কাজের গতি ব্যাহত না হয়। এর জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও হকার সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

পুরনো এই হোটেলটি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের অংশ এবং এর সংস্কার কাজ শহরের সাংস্কৃতিক ও পর্যটন দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কার কাজের জন্য পুরসভা বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ সম্পন্ন করবে যাতে ভবনের স্থায়িত্ব ও ঐতিহ্য বজায় থাকে।

মূল সংখ্যাগুলোর ব্যাখ্যা

ধর্মতলা গ্র্যান্ড হোটেল সংস্কারের জন্য পরিকল্পিত কাজের ধাপগুলি নিম্নরূপ:

১. হকার স্থানান্তর: প্রায় ১৫০ জন হকারকে ধাপে ধাপে অন্যত্র সরানো হবে।

২. সংস্কার সময়সীমা: কাজটি সম্পন্ন হওয়ার আনুমানিক সময় ১৮ মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।

৩. বাজেট: সংস্কারের জন্য বরাদ্দ বাজেট প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

৪. স্থানান্তরের জন্য নির্ধারিত নতুন হকার এলাকা: পুরসভা ইতিমধ্যে ধর্মতলা থেকে কিছু দূরে নতুন হকার মার্কেট তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে, যেখানে স্থানান্তরিত হকাররা কার্যক্রম চালাতে পারবেন।

এই সংখ্যাগুলো থেকে বোঝা যায়, প্রকল্পটি একটি বড় ও জটিল উদ্যোগ, যা স্থানীয় অর্থনীতি এবং জনজীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

গ্র্যান্ড হোটেল সংস্কারের মাধ্যমে ধর্মতলা এলাকা আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন হবে, যা শহরের পর্যটন ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করবে। পুরনো স্থাপত্যের সুরক্ষা ও সংস্কার শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হকারদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে, ধর্মতলা এলাকার পথচারী ও যানজট নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যাবে। এছাড়া হকারদের জন্য নতুন জায়গা নির্ধারণের ফলে তাদের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত হতে পারে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুরসভা শহরের অবকাঠামো উন্নয়নে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য পুরনো এলাকায় সংস্কারের জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে।

পরবর্তী ধাপ কী হবে

পুরসভা আগামী কয়েক মাসে হকারদের সঙ্গে আরও আলোচনা করবে এবং ধাপে ধাপে স্থানান্তরের কাজ শুরু করবে। স্থানান্তরের জন্য নির্ধারিত নতুন স্থানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলমান থাকবে।

সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার আগে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করবে যাতে ভবনের সংস্কার কার্যক্রম বাধাহীনভাবে চলতে পারে।

পুরসভা সময় সময় প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জনসাধারণকে তথ্য প্রদান করবে এবং হকার ও স্থানীয়দের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে কাজ করবে।

নাগরিকদের জন্য কী জানা জরুরি

ধর্মতলা এলাকা ও আশপাশে যারা বাস করেন বা ব্যবসা করেন, তাদের জন্য এই প্রকল্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রথমত, হকার স্থানান্তর কার্যক্রমের সময় এলাকা কিছুটা ব্যস্ত হতে পারে, তাই জনসাধারণকে ধৈর্য ধরতে হবে।

স্থানান্তরিত হকাররা নতুন জায়গায় ব্যবসা শুরু করতে পারবেন, যেখানে পুরসভা প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। নাগরিকদের উচিত স্থানান্তর প্রক্রিয়া ও সংস্কার কাজের সময় পরিবহন ও চলাচলে সাময়িক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা।

সরকারি ঘোষণা ও পুরসভার নির্দেশনা অনুসরণ করাই হবে সবার জন্য সুবিধাজনক। এছাড়া সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে ধর্মতলা এলাকা আরও সুগঠিত ও পরিচ্ছন্ন হবে, যা সকলের স্বার্থে।

সুত্র: আনন্দবাজার

“`

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More
articles