কমিশনের প্রশ্নে নন্দিনীর জবাবদিহি, পাঁচ নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় তলব কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট



কমিশনের প্রশ্নে নন্দিনীর জবাবদিহি, পাঁচ নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় তলব কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট


কমিশনের প্রশ্নে নন্দিনীর জবাবদিহি, পাঁচ নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় তলব কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট

পাঁচ দফা নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় কমিশনের তীব্র প্রতিক্রিয়া

দেশের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে পাঁচ দফা নির্দেশ কার্যকর না করার জন্য জবাবদিহি চেয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব ও পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার ইআরও ও এইআরওদের বিরুদ্ধে ‘ভূতুড়ে ভোটার’ তালিকাভুক্তির অভিযোগে এফআইআর দায়ের না করার বিষয়টি নিয়ে কমিশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকেও দিল্লিতে ডেকে এই নির্দেশনা দিয়েছে এবং মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে এফআইআর দায়েরের পাশাপাশি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যকারিতায় প্রশ্নচিহ্ন

কমিশনের মতে, রাজ্যে বিশেষ নিবন্ধন অভিযানের (সার) কাজে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রায়শই বিঘ্নিত হচ্ছে এবং প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে না। এ কারণে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নিশ্চয়তা মুখ্যসচিবের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট-২ এর বিডিও অতিরিক্ত এইআরও নিয়োগের অনুমতি না নেওয়ায় তাকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করা হয়েছে, কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা

রাজ্যে ‘সার’ প্রক্রিয়ার শুনানি শেষ হলেও এখনও প্রায় ৫০ লক্ষ নথি যাচাই ও আপলোডের কাজ বাকি রয়েছে। এর পরেই সুপার চেকিং বা স্ক্রুটিনি হবে, যা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কতজনকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তা স্পষ্ট হবে না। আপাতত ১ লক্ষ ৬৩ হাজার অযোগ্য ভোটার চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ভোটার তালিকা প্রস্তুতিতে নিরপেক্ষতা ও নির্দেশিকা মেনে কাজ করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।

নাগরিকদের জন্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সঠিক ভোটার তালিকা নিশ্চিত করা নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের নির্দেশনা মেনে দ্রুত এফআইআর দায়ের এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ না হলে ভোটের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জটিল হতে পারে, যা ভোটারদের জন্য বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। তাই রাজ্য সরকারের সক্রিয়তা এবং সময়মতো কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা প্রয়োজন।

উৎস এবং পরবর্তী পর্যবেক্ষণ

উৎস প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে যে, নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে চলমান এই সমন্বয় ও তদারকি আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু ভোট প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকরা আগামী ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় এবং কমিশনের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে নজর রাখবেন।

সূত্র: Ei Samay


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More
articles