কলকাতা থেকে কোচবিহার যুব সাথীর ফর্ম নিতে প্রথম দিনে লম্বা লাইন কেন?




কলকাতা থেকে কোচবিহার যুব সাথীর ফর্ম নিতে প্রথম দিনে লম্বা লাইন কেন?

কলকাতা থেকে কোচবিহার যুব সাথীর ফর্ম নিতে প্রথম দিনে লম্বা লাইন কেন?

কি ঘটল – যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম সংগ্রহে ভিড়

২০২৬ সালের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব সাথী প্রকল্পের রেজিস্ট্রেশন শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই কলকাতা থেকে কোচবিহার পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে ফর্ম সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বিশেষ করে শহরের সরকারি অফিস ও পয়েন্টগুলোতে যুবক-যুবতীরা সকাল থেকেই জমায়েত হয়ে পড়ে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এদিনের দৃশ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, এই প্রকল্পে যুব সমাজের আকর্ষণ অত্যন্ত বেশি।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ – নাগরিক জীবনে প্রভাব

যুব সাথী প্রকল্প মূলত তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়নে সাহায্য করার লক্ষ্যে গৃহীত। বর্তমান সময়ে, বিশেষ করে শহুরে যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি দিক থেকে সরাসরি সাহায্য পেলে তরুণরা তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে। ফর্ম সংগ্রহের জন্য এত বড় ভিড় প্রমাণ করে যে, নাগরিকরা এই সুযোগের প্রতি কতটা উৎসাহী এবং তারা জীবনের উন্নতির জন্য সরকারি পদক্ষেপের ওপর কতটা নির্ভরশীল।

পটভূমি – যুব সাথী প্রকল্প ও পশ্চিমবঙ্গের যুবনীতি

যুব সাথী প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরুণদের জন্য নেওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি, যা ২০১৬ সালে চালু হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল রাজ্যের যুব সমাজের দক্ষতা উন্নয়ন এবং তাদেরকে স্বনির্ভর করে তোলা। এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গের যুব মন্ত্রক এই কর্মসূচির তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

কলকাতা, রাজ্যের রাজধানী এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে, এখানকার যুব সমাজের অংশগ্রহণ সবসময়ই বেশি। কোচবিহার, যা উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা, তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে যুবদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের যুবকদের একসঙ্গে আনা এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

এছাড়া, পূর্বে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিভিন্ন যুবকল্যাণ প্রকল্প চালু করেছিল, যেমন ‘বেঙ্গল স্কিল ডেভেলপমেন্ট মিশন’, যা যুবকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করেছে। যুব সাথী প্রকল্প সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে আরও বিস্তৃত এবং আধুনিক পরিকল্পনা নিয়ে এসেছে।

পরবর্তী ধাপ – ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

এখন যেহেতু রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে, তরুণদের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। ফর্ম সংগ্রহের ভিড় থেকে বোঝা যায় যে, প্রকল্পের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো, প্রশিক্ষণ মান উন্নত করা এবং প্রকল্পের আওতায় আসা যুবকদের নিয়মিত মনিটরিং করা জরুরি।

সঠিক বাস্তবায়ন হলে, যুব সাথী প্রকল্প রাজ্যের যুব সমাজকে স্বনির্ভর করে তুলতে সক্ষম হবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে, নীতিগত দুর্বলতা বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে যদি এই সুযোগ সঠিকভাবে পৌঁছানো না যায়, তাহলে তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে। তাই সরকারের কাছে এখন সময়ে প্রকল্পের প্রতিটি স্তরের উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

উৎস ও তথ্যসূত্র

এই প্রতিবেদনটি Ei Samay থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে রচিত।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More
articles