ঢাকার ব্লু লাইন ভূগর্ভস্থ স্টেশনের টানেল ভেন্টিলেশন আধুনিকীকরণের জন্য বরাদ্দ কত জানতে চান?
ঢাকার ব্লু লাইনে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া
ঢাকার ব্লু লাইন ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলোর টানেল ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের জন্য ১২০ কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে। এই উদ্যোগ মূলত যাত্রীদের আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর দ্রুত বর্ধমান জনসংখ্যার কারণে মেট্রো ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ একান্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেমের উন্নতি হলে স্টেশনের ভেতরের বাতাসের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে, যা যাত্রীদের জন্য সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করবে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ধোঁয়া নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা
ঢাকার ব্লু লাইন ব্যবহারকারী অনেক যাত্রী এই পরিবর্তনের বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলমান মেট্রো যাত্রায় ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার উন্নতি প্রয়োজন ছিল। “গ্রীষ্মকালে টানেলের ভিতরে গরম এবং বাতাসের অভাব খুবই কষ্টকর,” বললেন অনিকেত, একজন দৈনিক যাত্রী। তিনি আরও যোগ করেন, “ভেন্টিলেশন আধুনিক হলে যাত্রা অনেক বেশি আরামদায়ক হবে।”
অন্যদিকে, কিছু যাত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে এই প্রকল্পের কারণে মেট্রো পরিষেবায় বিরতি বা বিলম্ব হতে পারে। “আমাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের ওপর প্রভাব পড়বে কিনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন,” মন্তব্য করেন সুমিতা, যিনি প্রতিদিন মেট্রো ব্যবহার করেন। তবে অধিকাংশেরই আশা, আধুনিক প্রযুক্তি দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে স্থাপন হলে সাময়িক অসুবিধা সহ্য করা সম্ভব হবে।
নিরাপত্তা ও পরিবেশগত গুরুত্ব
টানেল ভেন্টিলেশন আধুনিকীকরণ শুধুমাত্র যাত্রী আরাম নয়, বরং জরুরি পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আগুন বা ধোঁয়ার মতো বিপর্যয় পরিস্থিতিতে দ্রুত ধোঁয়া নিষ্কাশন এবং তাজা বাতাস প্রবাহের মাধ্যমে প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো যায়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, উন্নত ভেন্টিলেশন সিস্টেম থাকলে দুর্ঘটনার সময় উদ্ধারকাজ সহজ হয় এবং যাত্রীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরানো সম্ভব হয়। এছাড়া, পরিবেশগত দিক থেকেও এই প্রযুক্তি টানেল ভেতরের বাতাসের মান উন্নত করে, যা যাত্রীদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
সরকারি উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২০ কোটি টাকার এই বরাদ্দ ঢাকার মেট্রো কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। ভবিষ্যতে মেট্রো নেটওয়ার্কের অন্যান্য ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলোর জন্যও এই ধরনের আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে যাতে যাত্রীদের যাতায়াতে কমতম প্রভাব পড়ে। আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
যাত্রীদের প্রত্যাশা ও সামাজিক প্রভাব
ঢাকা শহরের দ্রুত শহুরে জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মেট্রো পরিষেবার মান উন্নয়নের প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের মাঝে প্রবল। আধুনিক ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা শহরের কর্মজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করে।
অনিকেত ও সুমিতার মতো যাত্রীরা মনে করেন, আধুনিক ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা মেট্রো যাত্রাকে শুধু আরামদায়কই করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে শহরের পরিবেশগত মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। এর ফলে ঢাকার মেট্রো ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ও ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে।
সুত্র: আনন্দবাজার


