রাজনীতি থেকে দূরে থাকা যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের ভোটের ময়দানে থাকা নিয়ে প্রশ্ন ও সমালোচনা জোরালো

রাজনীতি থেকে দূরে থাকা যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের ভোটের ময়দানে থাকা নিয়ে প্রশ্ন ও সমালোচনা জোরালো

ঘটনার সারাংশ

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী চাকরি হারানোর বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা নিজেদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের ভোট প্রচারে যুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। শাসক ও বিরোধী পক্ষ উভয়েই এই শিক্ষকগোষ্ঠীর অবস্থানকে নিজেদের নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে আগ্রহী। তবে অধিকাংশ শিক্ষক সংগঠন ভোটকেন্দ্রিক রাজনীতিতে জড়াতে অনিচ্ছুক এবং নিজেদের আন্দোলনকে চাকরি পুনরুদ্ধারের দিকে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়।

মূল তথ্য ও নির্দিষ্ট উপাদান

রাজ্যে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে মোট ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হয়েছে, যা নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার পরেও প্রায় ১২০০ থেকে ১৩০০ জন ‘যোগ্য’ শিক্ষক এখনও চাকরির জন্য ডাক পাননি। এই তথ্য শুভজিৎ দাসের বক্তব্য থেকে জানা গেছে।

চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের আন্দোলনের অন্যতম নেতা হাবিব বাপি জানিয়েছেন যে, তারা শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষকে আবেদন করেছিল যাতে বিধানসভায় অর্ডিন্যান্স আনা হয় এবং ‘যোগ্য’ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের চাকরি হারানো রোধ করা যায়, কিন্তু কোনও পক্ষই এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় যেমন কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বর্ধমান, বীরভূম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং উত্তরবঙ্গ এলাকায় এই ইস্যু প্রভাব ফেলেছে।

প্রশাসনিক ও নীতিগত প্রেক্ষাপট

উৎস প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয় যে, এই চাকরি বাতিলের পেছনে নির্দিষ্ট কোন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা নীতিগত পরিবর্তন রয়েছে কি না। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্তরের একটি পদক্ষেপ। বিধানসভায় অর্ডিন্যান্স আনার জন্য রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।

নীতির উৎস প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয় যে, এই সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার গ্রহণ করেছে নাকি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনায় নেওয়া হয়েছে।

কারা প্রভাবিত হতে পারেন

এই পরিস্থিতিতে প্রভাবিত হচ্ছেন রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০০-১৩০০ জন ‘যোগ্য’ শিক্ষক এখনও চাকরির জন্য ডাক পাননি। তাদের চাকরি হারানো এবং পুনর্বাসনের অনিশ্চয়তা তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাও এই পরিস্থিতির কারণে প্রভাবিত হতে পারে, কারণ শিক্ষক সংকটের ফলে শিক্ষাদানের মান ও পরিমাণে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপ

চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা বর্তমানে কিউরেটিভ পিটিশনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আছেন, যা সুপ্রিম কোর্টে তাদের রিভিউ পিটিশন খারিজ হওয়ার পর নেওয়া পদক্ষেপ। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রার্থিতার প্রস্তাব আসলেও সংগঠনগতভাবে তারা ভোটকেন্দ্রিক রাজনীতিতে যুক্ত হতে রাজি নন।

বর্তমানে এই শিক্ষকগোষ্ঠীর প্রধান লক্ষ্য তাদের চাকরি পুনরুদ্ধার এবং এই ইস্যুতে প্রশাসনিক বা বিচারিক সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করা।

তথ্যসূত্র: Ei Samay

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More
articles