পশ্চিমবঙ্গের ৭.১০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য HS পরীক্ষা ২০২৬ শুরু, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন?
পরীক্ষার সূচি ও পরিধি
পশ্চিমবঙ্গের উচ্চ মাধ্যমিক (HS) পরীক্ষা ২০২৬-এর জন্য মোট ৭,১০,০০০-এর বেশি শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBCHSE) কর্তৃক নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২০শে ফেব্রুয়ারি এবং চলবে ২০ শে মার্চ পর্যন্ত। এই পরীক্ষায় রাজ্যের সব জেলা ও শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করবেন।
WBCHSE-এর অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মোট ৭,১২,৩৪৫ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। এর মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩,৬০,৫০০ এবং মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩,৫১,৮৪৫। পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক সময়সূচি ও কেন্দ্রসমূহের তালিকা পর্ষদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থা
২০২৬ সালের HS পরীক্ষায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর এবং শিক্ষা দফতরের যৌথ উদ্যোগে পরীক্ষা কেন্দ্রে মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, স্যানিটাইজার স্থাপন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ প্রশাসনও পরীক্ষার নিরাপত্তার জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। রাজ্যের পুলিশ মহাপরিদর্শক (DGP) জানিয়েছেন, মোট ১৫,০০০ পুলিশকর্মী পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে মোতায়েন করা হবে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। কেন্দ্রে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় কঠোর তল্লাশি ও পরিচয় যাচাই করা হবে।
পরীক্ষার কেন্দ্র ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা
রাজ্যব্যাপী মোট ১,২০০টি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য কমপক্ষে ৫ জন সুপারভাইজার ও ১০ জন সহকারী নিয়োগ করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ, পর্যাপ্ত আলো-আঁধার এবং বসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষা পর্ষদের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে কেন্দ্রগুলো বেছে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা সহজে পৌঁছাতে পারেন। কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সঙ্গে সমন্বয় রাখা হয়েছে।”
পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও পরবর্তী ধাপ
পরীক্ষা সমাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। WBCHSE-এর প্রধান বলেন, “আমরা ফলাফল নির্ভুল ও সময়মতো প্রকাশের জন্য বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছি। ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ও স্কুল অফিস থেকে তাদের ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন।”
ফলাফল প্রকাশের পর উচ্চ শিক্ষা ও ক্যারিয়ার পরামর্শের জন্য বিভিন্ন ওয়েবিনার এবং কর্মশালা পরিচালিত হবে। রাজ্য সরকার এই ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সরকারি ও শিক্ষাব্যবস্থার মন্তব্য
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী রাজ্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষার কেন্দ্রের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবকিছু নিয়মমাফিক চলছে।”
রাজ্য শিক্ষাবিভাগের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর পরীক্ষার সময় কোনও বড় ধরনের অনিয়ম বা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ রিপোর্ট করা হয়নি। এ বছরও সেই মান বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাবিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের HS পরীক্ষায় মোট পাশের হার ছিল ৭৫.৬২%, যা গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধারা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রশাসন ও শিক্ষকসমাজ নিয়মিত মনিটরিং ও মূল্যায়ন কার্যক্রম চালাচ্ছে।
পরীক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তারা নিয়ম মেনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিবেন।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর, যা ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করে।
সূত্র: Google News WB


