পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ডে নতুন স্টেশন ও রোড ওভার ব্রিজ অনুমোদন, কী প্রভাব পড়বে যাত্রীদের উপর?





পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ডে নতুন স্টেশন ও রোড ওভার ব্রিজ অনুমোদন, কী প্রভাব পড়বে যাত্রীদের উপর?

পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ডে নতুন স্টেশন ও রোড ওভার ব্রিজ অনুমোদন, কী প্রভাব পড়বে যাত্রীদের উপর?

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক ও রাজ্য প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে একাধিক নতুন রেল স্টেশন ও রোড ওভার ব্রিজ (ROB) নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে যাত্রী ও মালবাহী পরিবহনের গতি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন স্টেশন ও ওভার ব্রিজের অনুমোদনের বিবরণ

ভারতীয় রেল মন্ত্রকের ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষের বাজেট পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত এই প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে:

১. পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর-আসানসোল রেল সেকশনে ২টি নতুন স্টেশন নির্মাণ।
২. ঝাড়খণ্ডের রামগড় ও ঝুমুরহাটি অঞ্চলে মোট ৩টি রোড ওভার ব্রিজের নির্মাণ।
৩. দুর্গাপুর-আসানসোল সেকশনে বিদ্যমান স্টেশনগুলোর আধুনিকায়ন ও যাত্রী সুবিধা বৃদ্ধি।

এই প্রকল্পগুলোর মোট অনুমোদিত বাজেট প্রায় ২৩০ কোটি টাকা। রেল মন্ত্রকের অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “নতুন স্টেশন ও ওভার ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধা বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।”

প্রকল্পের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক দিক

রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্টেশন নির্মাণ ও ওভার ব্রিজ নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ওভার ব্রিজগুলো নিরাপত্তা মান অনুসারে নির্মিত হবে যাতে ভারী যানবাহনের চাপ সহ্য করতে পারে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনুমোদিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই কাজগুলো আগামী দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া, পরিবেশ ও স্থানীয় জনজীবনে প্রভাব সম্পর্কে পূর্ব মূল্যায়ন করেই নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

যাত্রী ও স্থানীয় জনগণের উপকারিতা

এই নতুন স্টেশন ও ওভার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের ফলে যাত্রীদের জন্য যাতায়াত অনেক সহজ ও দ্রুত হবে। বর্তমানে এই সেকশনে যানজট ও ট্রেন বিলম্বের সমস্যা ছিল, যা নতুন অবকাঠামোর মাধ্যমে অনেকাংশে সমাধান হবে বলে প্রত্যাশা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “নতুন ওভার ব্রিজের মাধ্যমে রেললাইন পারাপারে সময় কমবে এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও কমে যাবে।”

রেল বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুর্গাপুর-আসানসোল সেকশনে গত বছর গড়ে দিনে প্রায় ১ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছে। নতুন অবকাঠামো চালু হলে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

আইনি ও প্রশাসনিক দিক থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ

রেল মন্ত্রক ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে পরিবেশ সুরক্ষা আইন ও স্থানীয় প্রশাসনিক নিয়মাবলী মেনে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে পরিবেশ অনুমোদন পাওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং যেকোন বিলম্ব বা সমস্যা হলে তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

উল্লেখ্য, এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে, যা এই দুই রাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সূত্র: Google News WB


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More
articles