কলকাতার তৃণমূলের বাংলায় বাজেট বার্তা কেন দলীয় কাউন্সিলরদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উর্দু ও হিন্দি ভাষায় কি হবে?





কলকাতার তৃণমূলের বাংলায় বাজেট বার্তা কেন দলীয় কাউন্সিলরদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উর্দু ও হিন্দি ভাষায় কি হবে?

কলকাতার তৃণমূলের বাংলায় বাজেট বার্তা কেন দলীয় কাউন্সিলরদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উর্দু ও হিন্দি ভাষায় কি হবে?

কি ঘটল – কলকাতা পুরসভায় বাজেট অধিবেশনে ভাষা সংক্রান্ত নির্দেশনা

সম্প্রতি কলকাতা পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান হুইপ দলের কাউন্সিলরদের একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে আগামী বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য বাংলায় দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে বাজেট আলোচনায় বাংলা ভাষার গুরুত্ব বজায় থাকে এবং শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সংহতি গড়ে উঠে।

চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, উর্দু বা হিন্দি ভাষায় বক্তব্য প্রদান এড়াতে হবে। যদিও কলকাতায় উর্দু ও হিন্দি ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা কম নয়, তবুও দলীয় নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যাতে বাংলা ভাষার প্রাধান্য বজায় থাকে। এই নির্দেশনাটি কলকাতার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে নতুন ধরণের ভাষা নীতি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ – নাগরিক জীবনে ভাষার প্রভাব ও সাংস্কৃতিক সংহতি

কলকাতা শহর দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ভাষার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সরকারি ও রাজনৈতিক পরিসরে বাংলা ভাষার ব্যবহার শহরের নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। বাজেট অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য প্রদান করার এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় ভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সামনে আনার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

একদিকে, এটি শহরের বাঙালি জনসাধারণের জন্য একটি স্বস্তির বার্তা, যারা তাদের মাতৃভাষায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেখতে চান। অন্যদিকে, এই নির্দেশনা শহরের বহুভাষিক পরিবেশে কিছুটা বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, বিশেষ করে যারা উর্দু ও হিন্দি ভাষায় কথা বলেন তাদের জন্য। তবে, ভাষার মাধ্যম হিসেবে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সহজবোধ্যতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

পটভূমি – কলকাতার ভাষা ও প্রশাসনিক ঐতিহ্য

কলকাতা পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী এবং বাংলা ভাষার সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। বাংলা ভাষার গুরুত্ব শুধু সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে নয়, বরং সরকারি নথি, শিক্ষা ও রাজনৈতিক আলোচনায়ও অপরিসীম। কলকাতার পুরসভা বা কলকাতা মহানগর কর্পোরেশন (কেএমসি) শহরের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে এবং এর সদস্যরা বিভিন্ন ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন।

তৃণমূল কংগ্রেস, পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল হিসেবে বাংলার প্রচার ও সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। গত কয়েক বছর ধরে বাংলার ব্যবহার সরকারি পর্যায়ে আরও জোরদার হয়েছে, যেমন স্কুল শিক্ষা থেকে শুরু করে সরকারি অফিসিয়াল ভাষায় বাংলা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা। এই প্রেক্ষাপটে বাজেট অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য রাখার নির্দেশনা দলীয় নীতিরই অংশ।

উল্লেখযোগ্য, কলকাতায় উর্দু ও হিন্দি ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীও রয়েছে, যারা শহরের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ভাষা নিয়ে এই ধরনের নির্দেশনা সামাজিক সংহতি ও বহুভাষিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনারও কারণ হতে পারে।

পরবর্তী ধাপ – ভাষা নীতির প্রভাব ও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া

আগামী বাজেট অধিবেশনের ভাষাগত নীতি কেমন ফলাফল বয়ে আনবে তা সময়ের প্রশ্ন। বাংলায় বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা কার্যত শহরের প্রশাসনিক ভাষাকে আরও এক ধাপ শক্তিশালী করবে, যা বাঙালি নাগরিকদের জন্য স্বস্তির হলেও শহরের বহুভাষিক পরিবেশে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

দলীয় পর্যায়ে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে পালন করা হলে অন্যান্য ভাষাভাষী কাউন্সিলরদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। অন্যদিকে, এটি কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

ভবিষ্যতে এই নীতির প্রয়োগ কেমন হবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া এবং ভাষা সংক্রান্ত নীতিমালা কতটা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় তার উপর। শহরের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

ঘোড়াডুমের পাঠচক্রে যুক্ত হোন

বাংলার ইতিহাস, লোকঐতিহ্য, স্থাপত্য, ও শিল্পভাবনা নিয়ে তথ্যভিত্তিক, দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা