How to Escalate Civic Issues in West Bengal: Contact Egiye Bangla, Mamata, or CMO Grievance Cell

# পশ্চিমবঙ্গে নাগরিক সমস্যা দ্রুত সমাধানে করণীয়: এগিয়ে বাংলা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিএমও গ্রিভেন্স সেলের ভূমিকা

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে নাগরিক জীবনে নানা ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সড়কপথের অবস্থা থেকে শুরু করে পানীয় জল, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ সংযোগ কিংবা স্বাস্থ্যসেবা—এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি। কিন্তু অনেক সময় নাগরিকরা জানেন না কোথায় বা কিভাবে তাদের অভিযোগ পৌঁছে দিতে হবে যাতে তা কার্যকরভাবে সমাধান হয়। আধুনিক ডিজিটাল যুগে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার ও প্রশাসন নাগরিক অভিযোগ গ্রহণ এবং সমাধানের জন্য বেশ কিছু প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। বিশেষ করে ‘এগিয়ে বাংলা’ পোর্টাল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস, এবং চিফ মিনিস্টার অফিস (সিএমও) গ্রিভেন্স সেল এই কাজে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এই নিবন্ধে আমরা পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকরা কিভাবে তাদের সমস্যা দ্রুত ও সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেন তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

## এগিয়ে বাংলা: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নাগরিক অভিযোগের প্রথম ঠিকানা

‘এগিয়ে বাংলা’ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যেখানে নাগরিকরা বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ অনলাইনের মাধ্যমে জমা দিতে পারেন। রাজ্যের যেকোনো কোণ থেকে সহজেই মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে এই প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করা যায়। এখানে নাগরিকেরা সড়ক, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা থেকে শুরু করে পরিবেশগত বিষয় পর্যন্ত যে কোনো অভিযোগ করতে পারেন।

এগিয়ে বাংলার অন্যতম সুবিধা হল অভিযোগ দাখিলের পর তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়। অভিযোগের প্রতি বিভাগীয় বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়, ফলে নাগরিকরা জানতে পারেন তাদের অভিযোগ কোথায় পৌঁছেছে এবং কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যেমন কলকাতার বুকে কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকলে স্থানীয় বাসিন্দারা ‘এগিয়ে বাংলা’ প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ করলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তর তা দেখতে পায় এবং ব্যবস্থা নেয়।

## মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে সরাসরি অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সময়-সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে একটি বিশেষ গ্রিভেন্স সেল রয়েছে যেখানে সরাসরি নাগরিকরা তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন। যদিও এটি সরাসরি যোগাযোগের জন্য সীমিত, তবে বিভিন্ন সময় মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে নির্দিষ্ট ই-মেইল বা ফোন নম্বর প্রকাশ করা হয় যেখানে অভিযোগ পাঠানো যায়।

মুখ্যমন্ত্রী নিজেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন টুইটার ব্যবহার করে নাগরিকদের সমস্যার প্রতি নজর রাখেন। অনেক সময়ই তিনি বা তার অফিস থেকে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, হাওড়া বা হুগলি জেলার কোনো এলাকার বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে জানালে দ্রুত বিদ্যুৎ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

## চিফ মিনিস্টার অফিস (সিএমও) গ্রিভেন্স সেলের কার্যকারিতা

চিফ মিনিস্টার অফিস (সিএমও) পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক শাখা যা নাগরিক অভিযোগ গ্রহণ ও সমাধানে নিয়োজিত। সিএমও গ্রিভেন্স সেল নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণের পাশাপাশি তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ এবং ফলাফল মনিটরিং করে থাকে। সিএমওয়ের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো হলে তা দ্রুত উচ্চ পর্যায়ের নজরে আসে।

কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা সহ রাজ্যের অন্যান্য জেলা থেকে নাগরিকরা সিএমও গ্রিভেন্স সেলে ফোন, ই-মেইল বা ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করতে পারেন। সিএমও কর্তৃপক্ষ অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং প্রগতি সংক্রান্ত তথ্য নাগরিকদের জানানো হয়। বিশেষ করে সিএমওয়ের মাধ্যমে জমা দেওয়া অভিযোগ অনেক সময় স্থানীয় প্রশাসনের তুলনায় দ্রুত সমাধান হয়।

## নাগরিকদের করণীয়: অভিযোগ জানানোর সঠিক পথ

পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের উচিত তাদের সমস্যাগুলো প্রথমে স্থানীয় পৌরসভা বা পঞ্চায়েত দপ্তরে জানানো। কিন্তু যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে ‘এগিয়ে বাংলা’ পোর্টালে অভিযোগ দাখিল করা উচিত। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর অফিস এবং সিএমও গ্রিভেন্স সেলে অভিযোগ পাঠানো যেতে পারে। অভিযোগ পাঠানোর সময় সমস্যার যথাযথ বিবরণ, ছবি বা ভিডিও থাকলে তা সংযুক্ত করা উচিত। এতে সমস্যাটির প্রকৃতি পরিষ্কার হয় এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়।

রাজ্যের বিভিন্ন শহর যেমন কলকাতা, হাওড়া, দমদম বা বারাসাতের নাগরিকরা এই মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে তাদের নাগরিক অধিকার রক্ষা করতে পারেন। পাশাপাশি, অভিযোগের সময় ধৈর্য্য রাখা প্রয়োজন কারণ সমাধানে কিছু সময় লাগতে পারে।

## উপসংহার

পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সমস্যা সমাধানে আধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রশাসনিক উদ্যোগগুলোর ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। ‘এগিয়ে বাংলা’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস এবং সিএমও গ্রিভেন্স সেল নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। নাগরিকরা যদি সচেতনভাবে এবং সঠিক পদ্ধতিতে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন, তাহলে দ্রুত ও কার্যকর সমাধান সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গের সব মানুষ যেন তাদের অধিকার ও উন্নত জীবনযাপনের জন্য এসব সুযোগ গ্রহণ করেন—এটাই কাম্য।

এই প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিভিন্ন নাগরিক অভিযোগের সমাধানে এগিয়ে বাংলা ও সিএমও গ্রিভেন্স সেলের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা দেখা যাচ্ছে, যা প্রমাণ করে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশাসনের সঠিক সমন্বয়ে জনসাধারণের কল্যাণে অনেক কিছু সম্ভব।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *